বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই চুক্তি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর আদলে হতে পারে। অর্থাৎ একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে অপর দেশ সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে।
ভারত–বাংলাদেশ চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এমন দাবি সামনে আসায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ঘন ঘন বাংলাদেশ সফর করছেন, যা এই সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সমঝোতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২২ ডিসেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ একটি এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে জানায়, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে একটি যৌথ মেকানিজম গঠন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার কাজ হলো প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া ও বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক যোগাযোগ ও কৌশলগত সমন্বয়ের প্রতিফলন। চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দুই দেশের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান, নৌবাহিনীর প্রধান এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম মালিকসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ঢাকা সফর করেছেন। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে দিল্লির প্রভাব থেকে সরে ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো আরও বলছে, সম্ভাব্য বাংলাদেশ–পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির মতো হতে পারে। গত সেপ্টেম্বর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এমন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে একটি দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতেও অনুরূপ শর্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এতে পারমাণবিক সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
সংবাদমাধ্যমটির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া ভারতবিরোধী মনোভাব পাকিস্তানের জন্য এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। যদিও এই বিষয়ে ভারত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। এটি পাকিস্তানের তথাকথিত টু-ফ্রন্ট ওয়ার বা দুই দিক থেকে ভারতকে কৌশলগত চাপে রাখার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন তারা।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি