তুরস্কে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় লিবিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। লিবিয়ার চিফ অব স্টাফকে বহনকারী একটি ব্যক্তিগত জেট বিমান তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার কাছে হিমা শহরের অদূরে বিধ্বস্ত হয় বলে নিশ্চিত করেছে তুরস্ক কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় পড়া বিমানটি ছিল একটি Falcon 50 বিজনেস জেট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আঙ্কারার আসেন বিমানবন্দর থেকে এটি ত্রিপোলির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটির ক্রু একটি বৈদ্যুতিক ত্রুটির কথা জানিয়ে জরুরি অবতরণের অনুমতি চায়। তবে সেই বার্তার পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই আঙ্কারার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। পরে তুরস্ক নিশ্চিত করে যে দুর্ঘটনাস্থলে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন লিবিয়ার চিফ অব স্টাফ জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ, যিনি দেশটির অন্যতম শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। এছাড়া নিহত হয়েছেন স্থলবাহিনীর চিফ অব স্টাফ, লিবিয়ার সামরিক শিল্প কর্তৃপক্ষের প্রধান, চিফ অব স্টাফের একজন উপদেষ্টা এবং একজন সামরিক আলোকচিত্রী।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দিবেইবা এক বিবৃতিতে এই দুর্ঘটনাকে “জাতীয় ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ ঘটনার পর লিবিয়ায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, নিহত প্রতিনিধিদলটি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে একটি সরকারি সফর শেষ করে দেশে ফিরছিল। বিবৃতিতে বলা হয়, এই দুর্ঘটনা লিবিয়ার সামরিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
এদিকে পূর্ব লিবিয়ার সমান্তরাল প্রশাসনের প্রধান খলিফা হাফতার-ও নিহতদের স্মরণে শোকবার্তা দিয়েছেন।
তুর্কি গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দুর্ঘটনার সময় আকাশে হঠাৎ আলোর ঝলকানি দেখা যায়, যা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুহূর্তে বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের প্রসিকিউটররা দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন।
দুর্ঘটনার আগে নিহত প্রতিনিধিদলটি আঙ্কারায় সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছিল। জেনারেল আল-হাদ দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই তুরস্কের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ার চিফ অব স্টাফের মৃত্যু দেশটির জন্য একটি বড় আঘাত। তিনি জাতিসংঘ-সমর্থিত উদ্যোগের মাধ্যমে লিবিয়ার বিভক্ত সশস্ত্র বাহিনীকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপর্যস্ত লিবিয়ার সামরিক কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এই দুর্ঘটনা।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি