ভারতে আবারও ধর্মীয় ও জাতিগত ঘৃণার শিকার হলেন এক নিরপরাধ শ্রমিক। বাংলাদেশি সন্দেহে উড়িশায় নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ২১ বছর বয়সী ভারতীয় নির্মাণ শ্রমিক জুয়েল শেখকে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার সঙ্গে থাকা আরও দুই শ্রমিক। ঘটনার পর দেশটিতে সংখ্যালঘু শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিহত জুয়েল শেখ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার সন্ধানে প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিনি উড়িশার সম্বলপুর জেলার চকবাহাদুরপুর এলাকা থেকে কাজের উদ্দেশ্যে সেখানে যান। একটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজও শুরু করেছিলেন তিনি।
বুধবার রাতে আচমকা কয়েকজন স্থানীয় দুষ্কৃতিকারী জুয়েলের ভাড়া ঘরে ঢুকে পড়ে। বাংলা ভাষায় কথা বলা এবং মুসলিম পরিচয়ের কারণে তাকে বাংলাদেশি সন্দেহে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। হামলার সময় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর জুয়েল শেখ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। আহত দুই শ্রমিককে সম্বলপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কতজন জড়িত বা কাউকে আটক করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এই নৃশংস ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী ও মুসলিম শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র ভাষা ও পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে এমন সহিংসতা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
জুয়েল শেখের মৃত্যুর খবর তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আগামী দুই–তিন দিনের মধ্যে তার মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা–মা।
ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি