শনিবার ভোর থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। রাজধানীজুড়ে প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কি জানান, এই হামলায় প্রায় ৫০০টি ড্রোন এবং অন্তত ৪০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনা। এতে রাজধানী কিয়েভ এবং আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকের তথ্য অনুযায়ী, কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে ১০ লাখের বেশি ঘর বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি রাজধানীর প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকায় তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে তীব্র শীতের মধ্যে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
এই হামলাটি এমন এক সময়ে চালানো হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলাদিমির জেলেনস্কির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রোববারের এই বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যতে ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে কূটনৈতিক সূত্র।
বৈঠকের আগে জেলেনস্কি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় কানাডা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত ২৫০ কোটি কানাডিয়ান ডলার অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর শীর্ষ নেতারাও যৌথভাবে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইউক্রেনের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, কিয়েভ শান্তিপূর্ণ সমাধানে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির দাবি, এই হামলাই প্রমাণ করে যে রাশিয়া এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথেই অটল রয়েছে। তার মতে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগের আগ মুহূর্তে এমন হামলা রাশিয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে তুলেছে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি