সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে নির্মম সেই মুহূর্ত। রোববার বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহরের বাহিরগোলা এলাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশায় বসেছিলেন ইসলামিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান। হঠাৎ কয়েকজন কিশোর দেশীয় অস্ত্র হাতে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে উপুর্যুপুরি আঘাত করে তারা। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুর রহমানকে উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে নিহত শিক্ষার্থীর স্বজন ও সহপাঠীরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের স্বজনরা জানান, হামলাকারীরা দুই হাত ভেঙে দেয় এবং শরীরের একাধিক স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পেটের নিচে ও বুকে গুরুতর কোপ দেওয়া হয়। চিকিৎসকরাও জানান, আঘাতগুলো ছিল গভীর এবং ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণই মৃত্যুর প্রধান কারণ। বুকে ও দুই কাঁধের আশপাশে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, কলেজের রেগডে অনুষ্ঠান এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। এর আগেও নিহত শিক্ষার্থীর সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় সিরাজগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। কিশোর গ্যাং ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি