অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে চরম সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকরা। এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এসব ফোনে নেটওয়ার্ক সংযোগ বন্ধ থাকায় বিক্রি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় শত শত মোবাইল দোকান দুদিন ধরে বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রামের অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সবচেয়ে বড় বাজার রিয়াজুদ্দিন বাজারে অন্তত ৩০০টির বেশি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ মোবাইল ফোন আসে দুবাই, জাপান, সিঙ্গাপুর, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত থেকে। তবে জানুয়ারির শুরু থেকে এনইআইআর সিস্টেম চালু হওয়ায় এসব ফোনে সিম প্রবেশ করালেই অনিবন্ধিত দেখাচ্ছে এবং নেটওয়ার্ক সংযোগ মিলছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, হঠাৎ করে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন। অনেক দোকানে কোটি টাকার পণ্য আটকে আছে, যা বিক্রি করা যাচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন ছাড়া এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি পুরো ইন্ডাস্ট্রি রাতারাতি অচল হয়ে গেছে।
এনইআইআর কার্যক্রমের সঙ্গে কর যুক্ত হওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদেরও। একই সঙ্গে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পুনরায় নিবন্ধনের জটিলতায় সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল বাজারও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে স্বল্প আয়ের গ্রাহকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার মোবাইল দোকান এই খাতের সঙ্গে জড়িত। এসব দোকানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করে। বর্তমান সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে দোকান কর্মচারী ও তাদের পরিবারগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে।
দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার তাৎক্ষণিকভাবে দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং একটি কার্যকর রি-রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ চালুর দাবি জানিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংকট নিরসনে দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি