চরম উত্তেজনার মধ্যেই বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস। শহরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং রাতের আকাশ জুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। একই সময়ে নিচু উচ্চতায় যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার শব্দ পাওয়া যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, শনিবার ভোরে কারাকাসে অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ওই এলাকায় ভেনিজুয়েলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে প্রথম বিস্ফোরণটি রেকর্ড করা হয়। সিএনএন এর সংবাদদাতা ওসমানি হারনান্দেস জানান, একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের ভবনের জানালা কেঁপে ওঠে। সিএনএন এর হাতে আসা ভিডিওতে রাতের আকাশে বড় ধোঁয়ার কুণ্ডলী ও আগুনের কমলা আভা দেখা যায়।
স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর দাবি, কেবল কারাকাসেই নয় বরং রাজধানীর উত্তরের লা গুয়াইরা রাজ্য এবং উপকূলীয় শহর হিগুয়েরেতেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ জোরদার করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ক্যারিবিয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক দশকের সবচেয়ে বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে, যা তারা অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার নামে পরিচিত একটি অভিযানের অংশ বলে জানিয়েছে।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের বিশাল তেলসম্পদ দখলের পরিকল্পনা করছে। তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে মাদুরো জানান, মাদক পাচার রোধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের জন্য ভেনিজুয়েলা প্রস্তুত।
এদিকে গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলায় সিআইএ নেতৃত্বাধীন একটি হামলার খবর ছড়ালেও সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত মন্তব্য করেননি মাদুরো। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পাঁচটি সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌকায় হামলা চালায়। মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ভেনিজুয়েলা ও কলম্বিয়ার নাগরিকও রয়েছে।
সব মিলিয়ে কারাকাসে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ ও সামরিক তৎপরতা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, আমেরিকা কি তবে ভেনিজুয়েলাকে ঘিরে আরেকটি যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি