ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবিকে ঘিরে দেশটিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে। অভিযানের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে কারাকাস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুব নিচু দিয়ে একাধিক সামরিক হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা যায়। বিস্ফোরণের পর রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ভোররাত প্রায় ২টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একটি বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের ভবনের জানালা কেঁপে ওঠে। রাতের আকাশে আগুনের আভা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দুটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ঘাঁটিগুলোর আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির আশঙ্কায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথ বাহিনীর তৎপরতা জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনাই এই পরিস্থিতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে সত্যিই প্রেসিডেন্ট মাদুরো আটক হয়েছেন কিনা—তা নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি