ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে।
শনিবার ইয়েমেনের সিয়ন ও হাদ্রামাউত অঞ্চলে একের পর এক বিমান হামলায় পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। সৌদি জোটের এই অভিযানে এসটিসির সামরিক ঘাঁটি, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ক্যাম্পগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। নিহতদের বেশিরভাগই এসটিসি সংশ্লিষ্ট যোদ্ধা বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলেই এই হামলা। দক্ষিণ ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের টানাপোড়েন দিন দিন সহিংস রূপ নিচ্ছে।
এদিকে হামলার মধ্যেই ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার ঘোষণা দিয়েছে এসটিসি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত এই নতুন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসটিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বাধীনতা ঘোষণার পর সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত মাসে ইয়েমেনে বড় ধরনের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। আরব আমিরাতের সমর্থনে এসটিসি দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিলে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সংঘাতই এখন সরাসরি আকাশযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার এই অপ্রকাশ্য দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘস্থায়ী হলে ইয়েমেন সংকট নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি