সরকারি পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়াই ভারত, সিঙ্গাপুর ও সৌদি আরব ঘুরে অবশেষে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরেছে চট্টগ্রামের এক কিশোর। অবিশ্বাস্য এই ঘটনার নায়ক চট্টগ্রামের বাসিন্দা কিশোর মেহেদী হাসান।
গত ১০ অক্টোবর বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় মেহেদী। ঘুরতে ঘুরতে সে পৌঁছে যায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে। ওই সময় পানামা পতাকাবাহী চিনি বোঝাই জাহাজ এমভি টাইটন বন্দরে নোঙর করা ছিল।
মেহেদী জাহাজের শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করে। দিনভর কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে রাতে সে জাহাজের লাইফবোটে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু পরদিন দুপুরে ঘুম ভাঙতেই সে বুঝতে পারে জাহাজটি গভীর সমুদ্রে অজানা গন্তব্যে ছুটে চলেছে।
পরবর্তী দুই দিন জাহাজেই লুকিয়ে থাকে সে। তৃতীয় দিনে ক্ষুধার তাড়নায় খাবার কক্ষে গেলে নাবিকদের নজরে পড়ে যায় মেহেদী। ততক্ষণে জাহাজটি পৌঁছে গেছে ভারতের বিশাখাপত্তনম বন্দরে।
জাহাজ কর্তৃপক্ষ ভারতীয় কোস্টগার্ড ও ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে মেহেদীকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করলেও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। পরে জাহাজটি মুম্বাই বন্দর হয়ে সিঙ্গাপুর এবং এরপর সৌদি আরবে যাত্রা করে।
প্রায় দুই মাসের এই দীর্ঘ যাত্রায় জাহাজের ক্যাপ্টেন ও নাবিকরা মানবিকতার পরিচয় দেন। তারা মেহেদীকে খাবার, আশ্রয় ও নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখেন। একাধিক দেশে পণ্য খালাস ও বোঝাই শেষে জাহাজটি ফের বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ১০ ডিসেম্বর বিদেশি জাহাজটি মংলা সমুদ্র বন্দরের হারবাড়িয়া পশুর চ্যানেলে নোঙর করে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মেহেদীকে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মংলা থানা পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়নে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে মেহেদী নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার চট্টগ্রামের বন্দর থানায় সাধারণ ডায়রি করেছিল। প্রায় দুই মাস পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তার বাবা-মা।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া ভ্রমণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অনেক ক্ষেত্রে এমন ঘটনার পরিণতি কঠোর হলেও মানবিকতার কারণে প্রাণে বেঁচে দেশে ফিরতে পেরেছে কিশোর মেহেদী হাসান।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি