ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন সংকটে প্রবাসী রেমিট্যান্স ও অর্থনীতি ঝুঁকিতে
ইসলামী ব্যাংকের দীর্ঘদিনের লেনদেন সংকট নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমানতকারীরা। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নিজেদের জমানো টাকা তুলতে না পেরে অনেকে রাস্তায় নেমেছেন। তাদের অভিযোগ, এই সংকট শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং দেশের অর্থনীতি ও প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
আন্দোলনরত আমানতকারীরা জানান, প্রায় দুই কোটি প্রবাসীর একটি বড় অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান। সেই টাকা আটকে থাকায় পরিবার চালানো, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ব্যবসা পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, যদি আমানতকারীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন, তবে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছাবে।
আমানতকারীদের দাবি, তারা কখনো একসাথে সব টাকা ফেরত চাননি। বরং ধাপে ধাপে টাকা ফেরতের একটি নির্দিষ্ট রোডম্যাপ চান। ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
একজন প্রবাসী আমানতকারী বলেন, আজ দেড় বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ডিপোজিট থেকে একটি টাকাও তুলতে পারিনি। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে। সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারছি না।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে আন্দোলনে নামেননি। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যেমন শিক্ষক, ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরা আজ বাধ্য হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত একটি ব্যাংকে টাকা রাখার পরও কেন তারা এত অসহায়।
আমানতকারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি স্পষ্ট দাবি জানানো হয়। তারা চান, দুই লাখ টাকার আমানত সুরক্ষা সীমার বাইরে থাকা বাকি আমানত ফেরতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত লিখিত রোডম্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি দুই লাখ টাকার ইনস্যুরেন্সকৃত আমানত দ্রুত ফেরত দেওয়া শুরু করতে হবে।
তাদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সকল আমানতকারীর মুদারাবাসহ শতভাগ আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা, ইসলামী ব্যাংকের সব শাখায় লেনদেন দ্রুত স্বাভাবিক করা এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা।
আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, আমানতকারীদের আস্থা না ফিরলে আগামী দিনে ব্যাংকিং খাত আরও বড় সংকটে পড়বে। তারা শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান এবং সময় থাকতে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
একজন নারী আমানতকারী বলেন, তার সন্তানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি দিতে না পারায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে এবং এতে পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আরেকজন বলেন, ব্যাংকে টাকা রেখে আজ তাকে শাখায় শাখায় ঘুরতে হচ্ছে, এর চেয়ে বড় কষ্ট আর কী হতে পারে।
সবশেষে আমানতকারীরা বলেন, তারা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার চান। ব্যাংকে রাখা কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের একটি স্পষ্ট ও সরকারি ঘোষণা না এলে এই সংকট আরও গভীর হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি