পাঁচ ব্যাংকের ৭৫ লাখ গ্রাহকের অর্থ কবে মিলবে, জানাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক
“দাবি একটাই, একাউন্টে জমা রাখা টাকা ফেরত চাই” এই স্লোগানে রাজপথে একীভূত হয়েছেন পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা। মঙ্গলবার ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। আন্দোলনকারীরা জানান, কষ্টে জমানো টাকা ফেরত না পেলে ঘরে ফিরবেন না।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আমানতকারীরা বলেন, তারা টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকে নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর একাউন্টে জমা রেখেছেন। অথচ এখন টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে ইঙ্গিত করছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
একজন আমানতকারী বলেন, নতুন একাউন্ট খোলা গ্রাহকদের টাকা দেওয়া হলেও পুরোনো প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ জানান, একাধিক ব্যাংকে তাদের কোটি টাকার বেশি আমানত আটকে আছে। অনেকে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা, যাদের পরিবারের জীবিকা এখন চরম সংকটে।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক নারী আমানতকারী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার মৃত্যু হয়ে গেলেও এই টাকার দরকার নেই, কিন্তু আমার কষ্টের টাকা আমাকে ফেরত দিতে হবে। আমি ও আমার স্বামী দুজনই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।”
মানববন্ধন থেকে আমানতকারীরা কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে ইনস্যুরেন্স আমানত সুরক্ষা বাবদ দুই লাখ টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়া শুরু করা। পাশাপাশি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চলতি হিসাব, সঞ্চয় হিসাব, এফডিআর, ডিপিএসসহ সব হিসাবে মুদারাবাসহ শতভাগ আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একাউন্টে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছে। তবে একীভূত হতে যাওয়া পাঁচটি ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহক ঠিক কবে টাকা তুলতে পারবেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো জানাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, আইনি ও প্রক্রিয়াগত বিভিন্ন জটিলতার কারণে টাকা ফেরত দিতে বিলম্ব হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন না করলে পুরো প্রক্রিয়া আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত পাঁচ ব্যাংকের সম্মিলিত আমানতের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তাদের ঋণের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকার বেশি, যার বড় অংশই খেলাপি। গ্লোবাল ইউনিয়ন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ও আরও কয়েকটি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার ৯৬ শতাংশের বেশি। পাঁচ ব্যাংক মিলিয়ে এই হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ১১ শতাংশ।
আমানতকারীরা বলছেন, দ্রুত স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। তারা শান্তিপূর্ণ সমাধান চান, তবে আর আশ্বাস নয়, চান বাস্তব সিদ্ধান্ত।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি