বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে শক্তিশালী দেশ ফ্রান্স। শত্রু হুমকি মোকাবেলায় আধুনিক সমরাস্ত্রের দিকে যখন বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম স্টার সেমটি–এনজি (STAR SAMP/T NG) সরবরাহের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে ফরাসি সরকার।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তালিকায় থাকা এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের আকাশ নিরাপত্তাকে একলাফে বহু গুণ শক্তিশালী করতে সক্ষম।
গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কৌশলগত আলোচনা
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের উন্নত প্রযুক্তি পর্যালোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জো-মার্ক সিরে সারলে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।
বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানান, ফ্রান্স কেবল অস্ত্র বিক্রেতা নয় বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিশ্ছিদ্র করতে তারা দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হতে চায়।
স্টার সেমটি–এনজি: কী এই প্রযুক্তি?
ফ্রান্সের প্রস্তাবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো স্টার সেমটি–এনজি (New Generation) সংস্করণ। এটি একটি অত্যাধুনিক মোবাইল এয়ার ডিফেন্স প্ল্যাটফর্ম, যা:
- ৩৬০ ডিগ্রি কভারেজে আকাশের যেকোনো হুমকি শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম
- একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক ও ধ্বংস করতে পারে
- ড্রোন, যুদ্ধবিমান, ক্রুজ মিসাইল এমনকি ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করতে সক্ষম
এই সিস্টেমের প্রাণভোমরা হলো থেলস গ্রুপের Ground Master 400 Alpha রাডার, যা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকেই শত্রুর উপস্থিতি নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারে।
অত্যাধুনিক মিসাইল প্রযুক্তি
এই সিস্টেমে ব্যবহৃত হয় ASTER interceptor missile, যা শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। বিশেষ করে হাইপারসনিক ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা বিশ্বজুড়ে পরীক্ষিত।
নিউ জেনারেশন সংস্করণে উন্নত সেন্সর ও ইলেকট্রনিক কাউন্টার–জ্যামিং প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে, ফলে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও সিস্টেমটি কার্যকর থাকে।
যুদ্ধবিমান রেসে পিছিয়ে ফ্রান্সের নতুন কৌশল?
এই প্রস্তাব এমন এক সময় এসেছে, যখন বাংলাদেশ ইতালির লিওনার্দো কোম্পানির ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা ফরাসি রাফায়েল যুদ্ধবিমান শেষ পর্যন্ত এই রেসে এগোতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিমানের বাজারে পিছিয়ে পড়ার পর ফ্রান্স এখন বাংলাদেশের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায়।
প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণ
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্স শুধু সরঞ্জাম সরবরাহ নয়
- প্রযুক্তি হস্তান্তর
- বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যদের জন্য সরাসরি ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ
এই বিষয়গুলোতেও সম্মত হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নিজেই এই উন্নত প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণে সক্ষম হবে।
কেন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে একটি দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিনের প্রয়োজন। বর্তমানে থাকা স্বল্প ও মধ্যপাল্লার সিস্টেমগুলো আংশিক সুরক্ষা দিলেও পুরো দেশের আকাশসীমাকে একটি কেন্দ্রীভূত নেটওয়ার্কে আনতে স্টার সেমটি এনজি অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় সামরিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি