জীবনের শুরুটা ছিল সীমিত আয়ে সংসার চালানোর সংগ্রাম দিয়ে। সামান্য ভাতা আর স্বল্প আয়ের মধ্যেই দুই সন্তানকে বড় করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল তাকে। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে নিজের কিংবা সন্তানদের জন্য বাড়তি কিছু চাওয়ার সুযোগ ছিল না।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়ার সামনে খুলে যায় এক কঠিন বাস্তবতা। দুই সন্তানকে নিয়ে শুরু হয় জীবনের এক দীর্ঘ সংগ্রামের অধ্যায়। রাজনীতির কঠিন ময়দানে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণের পাশাপাশি একদিকে সামলাতে হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, অন্যদিকে পালন করতে হয়েছে মায়ের দায়িত্ব।
রাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যেই ২০০৭ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতায় বড় ছেলে তারেক রহমানের গ্রেপ্তার খালেদা জিয়ার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে তারেক রহমানের চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাত্রা শুরু করে মা ও ছেলের দীর্ঘ বিচ্ছেদ। সেই বিচ্ছিন্নতা খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে।
এরপর আসে আরেকটি অপূরণীয় ক্ষতি। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সংবাদ খালেদা জিয়াকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। বিদেশের মাটিতে সন্তানের মরদেহের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাক মায়ের সেই চাহনি ছিল অব্যক্ত বেদনার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। কোকোর অকাল প্রয়াণের ক্ষত তাকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সন্তান হারানোর শোক এবং সন্তানদের সঙ্গে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা তার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতাকে আরও তীব্র করেছে। তবুও সহজ কোনো সমঝোতার পথে না গিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন অবস্থানেই অটল থেকেছেন তিনি।
অনেকে মনে করেন, সামান্য আপোষ করলেই হয়তো সন্তান ও নাতনিদের সান্নিধ্যে স্বাভাবিক জীবন পেতে পারতেন খালেদা জিয়া। কিন্তু অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার মানসিকতা তাকে দিয়েছে আপোষহীন নেত্রীর পরিচয়। অল্প বয়সে স্বামী হারানো, সন্তান হারানো এবং দীর্ঘ কারাবাসের মধ্য দিয়েও তিনি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়া মা হিসেবেও সফল, আবার রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও সফল। ব্যক্তিগত জীবনের সীমাহীন বেদনার মাঝেও তিনি দলের নেতৃত্ব ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বিচ্ছিন্ন জীবনের শৃঙ্খল কিছুটা ভাঙে। লন্ডনে পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনিদের সঙ্গে কাটানো হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তের ছবি নতুন করে আলোচনায় আসে।
দীর্ঘ রোগভোগের পর বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রয়াণে জিয়া পরিবার যেমন অভিভাবক হারিয়েছে, তেমনি বিএনপির কর্মী সমর্থকরাও হারিয়েছেন তাদের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের ছায়া। চার দশকের বেশি সময় দলের নেতৃত্ব দেওয়ার পর এখন বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভার স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে তারেক রহমানের কাঁধে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি