হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের এলপিজি গ্যাসের বাজার। সরকারি নির্ধারিত দামের অনেক বাইরে গিয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে দেড় গুণেরও বেশি দামে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কোথাও কোথাও ২০০০ থেকে ২১০০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মিরপুরের বাসিন্দা শাবনুর আক্তার জানান, গেল মাসের শুরুতে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনেছিলেন ১৪৫০ টাকায়। নতুন বছর শুরু হতেই একই সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে শুনতে হচ্ছে ২০০০ টাকার দাবি। তার মতো চাকরিজীবী পরিবারের জন্য মাসে দুটি সিলিন্ডারের বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসির নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য হওয়ার কথা ১২৫৩ টাকা। কিন্তু বাস্তবে এই দামে কোথাও গ্যাস মিলছে না। এলাকা ভেদে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২১০০ টাকায়।
দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশই গৃহস্থালির রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। ফলে হঠাৎ করে প্রতি সিলিন্ডারে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।
ভোক্তারা অভিযোগ করছেন, জানুয়ারির শুরুতে নতুন দাম ঘোষণার আগেই অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। অনেক ডিস্ট্রিবিউটর বলছেন, কোম্পানি থেকেই দাম বাড়ানো হয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বিশ্ববাজারে জাহাজ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলপিজি আমদানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় এলপিজি পরিবাহী কিছু জাহাজ আটকে পড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে বলে তারা দাবি করছেন।
তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব এই মূল্যবৃদ্ধিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বাজার অস্থিতিশীল করছে।
ক্যাবের মতে, বন্ধ দরজার ভেতরে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে দাম নির্ধারণের ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত বাজার মনিটরিং ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এলপিজি খাতে এই অরাজকতা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এলপিজি ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দেশে প্রতি মাসে গড়ে এক লাখ তিন হাজার টনের বেশি এলপিজি আমদানি করা হয়। এত বড় বাজারে স্বচ্ছতা ও নজরদারির অভাবই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি