পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই আবারও শক্তির বার্তা দিল উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয়েছে। এই উৎক্ষেপণকে শুধু সামরিক মহড়া হিসেবে নয় বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, কোরিয়ান উপদ্বীপের পশ্চিম উপকূলবর্তী সমুদ্র এলাকায় স্থাপিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নির্ধারিত কক্ষপথ ধরে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি জানায়, উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিম জং উন। তিনি এটিকে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরও একটি শক্ত প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
উৎক্ষেপণ পরবর্তী বক্তব্যে কিম জং উন সামরিক বাহিনীকে সীমাহীন ও টেকসই উন্নয়নের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা নিয়মিতভাবে যাচাই করা একটি দায়িত্বশীল ও প্রয়োজনীয় অনুশীলন। তিনি দাবি করেন, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে বহুমুখী নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে এবং সেসব মোকাবেলায় সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কংগ্রেসের আগে সামরিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরতেই কিম জং উনকে এতটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। ওই কংগ্রেসে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাত বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে উত্তেজনা এখানেই থেমে নেই। উত্তর কোরিয়া কোন এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, রোববার সকালে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনান এলাকা থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা শনাক্ত করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বছরের শেষ দিকে উত্তর কোরিয়া আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে। এই পরিস্থিতিতে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি