ভারতীয় গণমাধ্যমে হঠাৎ করে একটি খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আলোচিত বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের একটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম বলছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যেকোনো সময় সীমিত পরিসরে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
এই দুই দাবিকে ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ কেন এই উত্তেজনা এবং পরেশ বড়ুয়াকে ঘিরে ভারতের আশঙ্কাই বা এত গভীর কেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ ডিসেম্বর। ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ একটি প্রকাশ্য জনসভায় ভারতের প্রতি কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, যদি বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকে এবং আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না হয়, তবে বাংলাদেশও পাল্টা অবস্থান নিতে পারে। এই বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এরপরই ভারতের কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দাবি করে, পরেশ বড়ুয়াকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে এবং ঢাকায় একটি নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। এমনকি কিছু সাবেক সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তার বৈঠকের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
পরেশ বড়ুয়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন উলফার সামরিক প্রধান হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন এবং একটি স্বাধীন আসামের ধারণা তুলে ধরেছেন। ভারতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হলে শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তবে উলফার সাবেক নেতা অনুপ চেটিয়া এসব দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরেশ বড়ুয়ার বাংলাদেশে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি রায় ঝুলে রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে আশ্রয় দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, এটি হয়তো আতঙ্ক ছড়ানো বা রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকান্নাইন সায়েদ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকলে বহিরাগত শক্তি পরিস্থিতি কাজে লাগাতে পারে। তার মতে, রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল হলে কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
এরই মধ্যে দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে উগ্রবাদী বিক্ষোভ ও হুমকির ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এতে কূটনৈতিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে প্রতিবেশী শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতিতে সংযমী কূটনীতি, জাতীয় ঐক্য এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণই হতে পারে সংকট মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
sabbir422
আমি একজন web Developer এবং News Blogger । আমি ৫ বছর ধরে News Blog পরিচালনা করে এসেছি